আজ পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ - সঠিক সময় ও কোন রাশির কি প্রভাব জানুন

  কখন হবে সূর্যগ্রহণ ? ভারতে দেখা যাবে ? কোন রাশির উপর কি প্রভাব পড়বে ? 


আজ পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ- (ভারতবর্ষে অদৃশ্য)।

২৬শে শ্রাবণ, ভাঃ ২১শে শ্রাবণ, ইং ১২ই আগস্ট, ২০২৬ খ্রীঃ। (বুধবার)

পৃথিবীতে গ্রহণ আরম্ভ প্রভৃতি (ভারতীয় প্রমাণ সময়ানুযায়ী)

গ্রহণ স্পর্শ (আরম্ভ)- রাত্রি ঘ ৯।০৪ মিঃ।

পূর্ণগ্রাস আরম্ভ - রাত্রি ঘ ১০। ৩০ মিঃ।

গ্রহণ মধ্য - রাত্রি ঘ ১১। ১৭ মিঃ।

পূর্ণগ্রাস সমাপ্তি - রাত্রি ঘ ১২।০২ মিঃ।

গ্রহণ মোক্ষ (সমাপ্তি)- রাত্রি ঘ ১। ২৮ মিঃ।

গ্রাসমান - ১.০৩৮।

গ্রহণ স্থিতি - ৪ ঘঃ ২৪ মিঃ।

পূর্ণগ্রাস স্থিতি- ২মিঃ ১৬সেঃ।

গ্রহণ দৃশ্য- এই গ্রহণ ইউরোপের পশ্চিমাঞ্চলে, আফ্রিকার পশ্চিমাঞ্চলে, উত্তর আমেরিকা, গ্রীণল্যান্ড, আটলান্টিক মহাসাগরের উত্তরভাগে এবং প্রশান্ত মহাসাগরের উত্তরভাগে দৃশ্য হইবে।

দৃশ্য: ভারতবর্ষে অদৃশ্য

[অদৃশ্য গ্রহণে পাকপাত্র পরিত্যাগের বিধি নিষেধ নাই]

ভারতে কি দেখা যাবে?

না, এই সূর্যগ্রহণ ভারতবর্ষে দৃশ্যমান নয়। তাই বিশেষ বিধিনিষেধ মানার প্রয়োজন নেই।


সূর্যগ্রহণের রাশিফলে প্রভাব এবং সমাধান 

১২ রাশির উপর সম্ভাব্য প্রভাব

♈ মেষ

বাড়ি, পরিবার, জমি-জায়গা ও যানবাহন সংক্রান্ত বিষয়ে কিছু পরিবর্তন বা চিন্তা দেখা দিতে পারে। পারিবারিক বিষয়ে তাড়াহুড়ো করে সিদ্ধান্ত না নেওয়াই ভালো।

প্রতিকার: রবিবার সকালে সূর্যকে জল অর্পণ করুন এবং পিতা-মাতার আশীর্বাদ নিন।

♉ বৃষ

ভাই-বোন, প্রতিবেশী ও যোগাযোগের ক্ষেত্রে ভুল বোঝাবুঝি তৈরি হতে পারে। কথাবার্তায় সংযত থাকুন এবং অপরিচিত লিঙ্ক, ফোন বা অনলাইন লেনদেনে সতর্ক থাকুন।

প্রতিকার: সূর্য মন্ত্র জপ করুন— “ওঁ আদিত্যায় নমঃ”।

♊ মিথুন

অর্থ ও পারিবারিক বিষয়ে বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন। অপ্রয়োজনীয় খরচ এবং আবেগের বশে আর্থিক সিদ্ধান্ত এড়িয়ে চলুন। কথার কারণে সমস্যা তৈরি হতে পারে।

প্রতিকার: রবিবার গরিব বা প্রয়োজনীয় ব্যক্তিকে খাদ্য দান করুন।

♋ কর্কট

এই গ্রহণ কর্কট রাশিতে হওয়ায় এই রাশির জাতকদের উপর তুলনামূলকভাবে বেশি মানসিক প্রভাব পড়তে পারে বলে জ্যোতিষশাস্ত্রে মনে করা হয়। স্বাস্থ্য, মানসিক চাপ, আত্মবিশ্বাস ও ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা ভালো।

প্রতিকার: মহামৃত্যুঞ্জয় মন্ত্র বা “ওঁ নমঃ শিবায়” জপ করতে পারেন। গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে ভালোভাবে চিন্তা করুন।

♌ সিংহ

নিজের ভবিষ্যৎ, কর্মজীবন, অর্থনৈতিক পরিকল্পনা ও বিনিয়োগ নিয়ে নতুনভাবে ভাবার সময় আসতে পারে। অহংকার বা অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসের কারণে ভুল সিদ্ধান্ত না নেওয়াই ভালো।

প্রতিকার: নিয়মিত সূর্য প্রণাম করুন এবং গম বা লাল বস্ত্র দান করতে পারেন।

♍ কন্যা

বন্ধু, পরিচিতজন এবং সামাজিক যোগাযোগের ক্ষেত্রে কিছু পরিবর্তন হতে পারে। কোনও বন্ধুর আচরণে হতাশ না হয়ে পরিস্থিতিকে সময় দিন।

প্রতিকার: রবিবার প্রয়োজনীয় কাউকে সামর্থ্য অনুযায়ী সাহায্য করুন।

♎ তুলা

কর্মক্ষেত্রে দায়িত্ব বৃদ্ধি বা কাজের ধরনে পরিবর্তন আসতে পারে। ঊর্ধ্বতন ব্যক্তির সঙ্গে অপ্রয়োজনীয় বিতর্ক এড়িয়ে চলুন।

প্রতিকার: সূর্যোদয়ের সময় সূর্যকে জল অর্পণ করুন এবং “ওঁ সূর্যায় নমঃ” জপ করুন।

♏ বৃশ্চিক

পিতা, গুরুস্থানীয় ব্যক্তি বা পরিবারের প্রবীণ সদস্যকে নিয়ে চিন্তা হতে পারে। দূরের যাত্রা বা গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে পরিকল্পনা করে এগোন।

প্রতিকার: পিতা বা প্রবীণ ব্যক্তির সেবা ও আশীর্বাদ গ্রহণ করুন।

♐ ধনু

ঋণ, বিমা, উত্তরাধিকার বা যৌথ অর্থের বিষয় সামনে আসতে পারে। গোপন আর্থিক চুক্তি বা কাগজপত্র না পড়ে কোনও সিদ্ধান্ত নেবেন না।

প্রতিকার: দরিদ্র মানুষকে খাদ্য বা প্রয়োজনীয় সামগ্রী দান করুন।

♑ মকর

দাম্পত্য সম্পর্ক, ব্যবসায়িক অংশীদারিত্ব ও কর্মক্ষেত্রের সম্পর্কের উপর প্রভাব পড়তে পারে। কোনও সম্পর্কের ক্ষেত্রে অহেতুক সন্দেহ বা রাগ সমস্যা বাড়াতে পারে।

প্রতিকার: শনিবার ও রবিবার সামর্থ্য অনুযায়ী দান করুন এবং পরিবারের সঙ্গে শান্তিপূর্ণ সময় কাটান।

♒ কুম্ভ

কাজের চাপ ও দৈনন্দিন জীবনের ব্যস্ততা বাড়তে পারে। ঋণ নেওয়া, বড় আর্থিক দায় তৈরি করা বা হঠাৎ বিনিয়োগের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকুন।

প্রতিকার: নিয়মিত সূর্য প্রণাম করুন এবং নিজের দৈনন্দিন রুটিনে শৃঙ্খলা বজায় রাখুন।

♓ মীন

সন্তান, শিক্ষা, প্রেম, সৃজনশীলতা এবং বিনিয়োগের ক্ষেত্রে নতুন পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। শেয়ারবাজার বা ঝুঁকিপূর্ণ বিনিয়োগে আবেগের পরিবর্তে গবেষণাকে গুরুত্ব দিন।

প্রতিকার: ছাত্রছাত্রীদের বই-খাতা বা শিক্ষাসামগ্রী দান করতে পারেন এবং ইষ্টদেবতার নাম স্মরণ করুন।

গ্রহণের সময় কী করবেন?

যেহেতু ১২ আগস্টের সূর্যগ্রহণ ভারত থেকে দৃশ্যমান নয়, তাই ভারতে বসবাসকারী মানুষের জন্য গ্রহণ দেখা বা গ্রহণের সময় বিশেষ বিধিনিষেধ পালনের প্রয়োজন নেই। সূতকও প্রযোজ্য নয় বলে প্রচলিত পঞ্জিকা-ভিত্তিক নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে যাঁরা আধ্যাত্মিকভাবে গ্রহণের সময়টিকে গুরুত্ব দেন, তাঁরা—

  • ইষ্টদেবতার নাম জপ করতে পারেন।
  • “ওঁ সূর্যায় নমঃ” বা “ওঁ আদিত্যায় নমঃ” জপ করতে পারেন।
  • ধ্যান ও প্রার্থনা করতে পারেন।
  • দান-পুণ্য করতে পারেন।
  • নিজের ভুল-ত্রুটি নিয়ে আত্মসমীক্ষা করতে পারেন।
  • গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে কিছুটা সময় নিয়ে পরিস্থিতি বিচার করতে পারেন।

সবচেয়ে সহজ সার্বজনীন প্রতিকার

যাঁরা কোনও বিশেষ রাশির প্রতিকার করতে চান না, তাঁরা পরের রবিবার সকালে সূর্যোদয়ের সময় তামার পাত্রে পরিষ্কার জল নিয়ে সূর্যকে অর্ঘ্য দিতে পারেন। সঙ্গে ১১ বা ২১ বার—

“ওঁ সূর্যায় নমঃ”

জপ করতে পারেন।

এর পাশাপাশি পিতা-মাতা ও প্রবীণদের সম্মান করা, দরিদ্রকে খাদ্যদান করা এবং নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী সৎ কাজে সাহায্য করাকে শুভ প্রতিকার হিসেবে ধরা হয়।

শেষ কথা

সূর্যগ্রহণকে ভয় পাওয়ার কোনও কারণ নেই। জ্যোতিষশাস্ত্রের বিশ্বাস অনুযায়ী গ্রহণ জীবনের কিছু পুরনো বিষয়কে নতুন করে দেখার এবং প্রয়োজন হলে পরিবর্তনের সুযোগ তৈরি করতে পারে। তাই আতঙ্ক নয়—সংযম, প্রার্থনা, আত্মবিশ্বাস এবং সঠিক সিদ্ধান্তই হোক এই গ্রহণের মূল বার্তা।

বিশেষ দ্রষ্টব্য: রাশিভিত্তিক এই ফলাফল সাধারণ জ্যোতিষীয় ব্যাখ্যা। ব্যক্তিগত জন্মছক অনুযায়ী ফল সম্পূর্ণ ভিন্ন হতে পারে। জ্যোতিষশাস্ত্রের দাবিগুলিকে বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত ভবিষ্যদ্বাণী হিসেবে না দেখে ঐতিহ্যগত বিশ্বাস হিসেবে বিবেচনা করা উচিত।


সূর্যগ্রহণে কোন মন্ত্র জপ করবেন

সূর্য বীজ মন্ত্র –
ওঁ হ্রাঁ হ্রীঁ হ্রৌঁ সঃ সূর্যায় নমঃ

সূর্য মূল মন্ত্র –
ওঁ ঘৃণিঃ সূর্যায় নমঃ
অথবা
ওঁ হ্রীঁ ঘৃণিঃ সূর্য আদিত্যঃ শ্রীঁ

সূর্য গায়ত্রী মন্ত্র –
ওঁ আদিত্যায় বিদ্মহে দিবাকরায় ধীমহি তন্নো সূর্যঃ প্রচোদয়াত্

গ্রহণ রক্ষা মন্ত্র –
যোऽসৌ শূলধরো রুদ্রঃ শঙ্করঃ বৃষवाहনঃ । সূর্যোপরাগজং দোষং বিনাশযতু সর্বদা ।।



সূর্যগ্রহণে কী করবেন না

শাস্ত্র মতে, গ্রহণকালে রান্না বা আহার থেকে বিরত থাকা উচিত। গর্ভবতী, শিশু ও প্রবীণদের বিশেষ সতর্কতা প্রয়োজন। ধারালো বা সূচালো বস্তু ব্যবহার এড়িয়ে চলা ভালো। তবে এই নিয়মগুলি প্রধানত তখনই প্রযোজ্য, যখন গ্রহণ ভারতবর্ষে দৃশ্যমান হয়।


গর্ভবতী ও প্রবীণদের জন্য সতর্কতা

সাধারণভাবে সূর্যগ্রহণকে গর্ভবতী মহিলা, প্রবীণ, শিশু ও অসুস্থদের জন্য সংবেদনশীল সময় ধরা হয়। কিন্তু এই সূর্যগ্রহণ ভারতবর্ষে দৃশ্যমান নয়, তাই অযথা দুশ্চিন্তার প্রয়োজন নেই।


অমাবস্যায় সূর্যগ্রহণ – বিরল কি?

সূর্যগ্রহণ সর্বদাই অমাবস্যা তিথিতে ঘটে। তাই এটিকে বিরল সংযোগ বলা ঠিক নয়।


সূর্যগ্রহণের ধরন

সূর্যগ্রহণ প্রধানত তিন প্রকার:

  • পূর্ণ সূর্যগ্রহণ – চন্দ্র সূর্যকে সম্পূর্ণ ঢেকে দেয়

  • আংশিক সূর্যগ্রহণ – সূর্যের কিছু অংশ ঢাকা পড়ে

  • বলয়াকার সূর্যগ্রহণ – চন্দ্র সূর্যের কেন্দ্রীয় অংশ ঢেকে দেয়, চারপাশে আলোর বলয় দেখা যায়


‘রিং অফ ফায়ার’ কী?

বলয়াকার সূর্যগ্রহণের সময় সূর্যের চারদিকে উজ্জ্বল আলোর বলয় দেখা যায়, যাকে ‘রিং অফ ফায়ার’ বলা হয়।


🔔অ্যাপটি ভালো লাগলে ৫ স্টার দিয়ে সাপোর্ট করুন