ভোট দিতে যাবেন ? কি নেবেন ? কি নেওয়া যাবে না ? জেনে নিন

ভোট দিতে যাওয়ার আগে নিজেকে প্রস্তুত করে নিন । 

পশ্চিমবঙ্গে ভোট দেওয়া একটি গণতান্ত্রিক অধিকার। কিন্তু অনেক সময় আমরা বুঝতে পারি না ভোট দিতে গেলে ঠিক কী কী সঙ্গে নেওয়া জরুরি, আর কী কী নেওয়া একেবারেই উচিত নয়। এই পোস্টে সহজ ভাষায় সবকিছু পরিষ্কার করে দেওয়া হল।



কী কী সঙ্গে নেবেন (What to Take):

১. ভোটার কার্ড (EPIC): ভোট দেওয়ার জন্য এটিই প্রধান পরিচয়পত্র। মনে রাখবেন একমাত্র অরিজিনাল ভোটার কার্ড নিয়ে যাবেন , জেরক্স কপি নয় । 

অরিজিনাল ভোটার কার্ড না থাকলে - 

২. বিকল্প পরিচয়পত্র: যদি আপনার কাছে ভোটার কার্ড না থাকে, তবে নিচের যেকোনো একটি সচিত্র সরকারি পরিচয়পত্র নিয়ে নিশ্চিন্তে ভোট দিতে পারবেন: 

1️⃣  আধার কার্ড

2️⃣  এম.জি.এন.আর.ই.জি.এ জব কার্ড ( ১০০ দিনের জব কার্ড ) 

3️⃣  ছবি সম্বলিত পাসবই ব্যাংক/ পোস্ট অফিসের

4️⃣  স্বাস্থ্য বীমা প্রকল্পের স্মার্ট কার্ড (শ্রম মন্ত্রক দ্বারা প্রদত্ত)

5️⃣  ড্রাইভিং লাইসেন্স

6️⃣  প্যান কার্ড

7️⃣  স্মার্ট কার্ড শ্রমমন্ত্রকের প্রকল্পের অধীনে প্রদত্ত

8️⃣  ভারতীয় পাসপোর্ট

9️⃣  সচিত্র পেনশনের নথি

🔟  কর্মচারীদের প্রদত্ত সচিত্র পরিচয়পত্র (কেন্দ্রীয় সরকার, রাজ্য সরকার বা পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি দ্বারা প্রদত্ত)

উপরের কোনোটিই উপস্থিত না থাকলে 

1️⃣  সরকারি পরিচয় পত্র (এমপি/এম.এল.এ/এম.এল.সি দ্বারা জারি করা)

2️⃣  অক্ষমতার আইডি কার্ড ইউডিআইডি (UDID) (ভারত সরকারের সামাজিক ন্যায় ও ক্ষমতায়ন মন্ত্রক কর্তৃক প্রদত্ত)


এছাড়াও ভোটার কেন্দ্রে আপনাকে নিতে হবে 

একটি ভোটার স্লিপ: এই স্লিপে আপনার নামটি ভোটার লিস্টের কোথায় আছে সেটি দ্রুত খুঁজে পেতে সাহায্য করবে ।  তবে এটি পরিচয়পত্র হিসেবে গণ্য হয় না। সাধারনত বি.এল.ও রা এই স্লিপটি আগেই বাড়ি বাড়ি দিয়ে এসেছেন । এটি হারিয়ে গেলে চিন্তিত না হয়ে নিজের পার্ট নাম্বার ও লিস্টের সিরিয়াল নাম্বার খুঁজে নিয়ে একটি সাধারন কাগজে লিখে নিলেও হবে । 

জলের বোতল ও ছাতা:  বেশ খানিকক্ষণ লাইনে দাঁড়াতে হতে পারে । গরমের কথা মাথায় রেখে জলের বোতল ও রোদের হাত থেকে বাঁচতে ছাতা সঙ্গে রাখতে পারেন।  মাস্ক ও স্যানিটাইজার সাথে রাখতে পারেন । 


কী কী নেবেন না (What NOT to Take):

১. মোবাইল ফোন ও গ্যাজেট: বুথের ভেতরে মোবাইল ফোন, স্মার্ট ওয়াচ বা কোনো প্রকার ইলেকট্রনিক ডিভাইস নিয়ে প্রবেশ করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।   

২. ক্যামেরা: বুথের ভেতরে ছবি তোলা বা ভিডিও করা দণ্ডনীয় অপরাধ। 

৩. রাজনৈতিক প্রতীক: কোনো দলের লোগো দেওয়া জামা, টুপি বা স্কার্ফ পরে বুথে যাবেন না। বুথের ১০০ মিটারের মধ্যে কোনো প্রকার প্রচার চালানো নিষিদ্ধ। 

৪. নেশাদ্রব্য ও ধারালো অস্ত্র: বিড়ি, সিগারেট, দেশলাই, লাইটার বা কোনো প্রকার অস্ত্র নিয়ে প্রবেশ কঠোরভাবে নিষিদ্ধ।

৫. শিশুঃ বাচ্চা দের অনেকেই ভোট দেখাতে নিয়ে যান এবার সেটা করবেন না । ভোটকেন্দ্রে বাচ্চাদের প্রবেশ নিষেধ করা হয়েছে । 



💡 কিছু জরুরি তথ্য:

  • ভোটের সময়: সকাল ৭টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত।

  • বাইক বিধি: নির্বাচনের দিন এবং তার আগে বাইক চলাচলের ওপর বিশেষ কড়াকড়ি থাকে। তবে নির্বাচনের দিন পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ভোট দিতে যাওয়ার ক্ষেত্রে বিশেষ ছাড় দেওয়া হয়েছে।

  • তালিকায় নাম: বুথে যাওয়ার আগে ভোটার লিস্টে আপনার নাম আছে কি না তা 'Voter Helpline App' বা পোর্টালে চেক করে নিন। বা লোকাল বিএলও এর কাছে জেনে নিন । 


আপনার ভোট, আপনার অধিকার। নির্ভয়ে ভোট দিন, গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করুন! 🇮🇳


আপনার এখানে কি আজকে ভোট ? নিচের তালিকা থেকে দেখে নিন - 


📍২৩শে এপ্রিল (প্রথম দফা): জেলাভিত্তিক নির্বাচনী কেন্দ্রের তালিকা

আজ প্রথম দফায় উত্তরবঙ্গের সবকটি জেলা এবং দক্ষিণবঙ্গের জঙ্গলমহল ও মেদিনীপুর সংলগ্ন এলাকায় ভোটগ্রহণ হবে। জেলাগুলো হলো:

১. কোচবিহার জেলা (৯টি আসন): মেকলিগঞ্জ, মাথাভাঙ্গা, কোচবিহার উত্তর, কোচবিহার দক্ষিণ, শীতলকুচি, সিতাই, দিনহাটা, নাটাবাড়ি এবং তুফানগঞ্জ।

২. আলিপুরদুয়ার জেলা (৫টি আসন): কুমারগ্রাম, কালচিনি, আলিপুরদুয়ার, ফালাকাটা এবং মাদারিহাট।

৩. জলপাইগুড়ি জেলা (৭টি আসন): ধূপগুড়ি, ময়নাগুড়ি, জলপাইগুড়ি, রাজগঞ্জ, ডাবগ্রাম-ফুলবাড়ি, মাল এবং নাগরাকাটা।

৪. দার্জিলিং জেলা (৫টি আসন): দার্জিলিং, কার্শিয়াং, মাটিগাড়া-নকশালবাড়ি, শিলিগুড়ি এবং ফাঁসিদেওয়া।

৫. কালিম্পং জেলা (১টি আসন): কালিম্পং।

৬. উত্তর দিনাজপুর জেলা (৯টি আসন): চোপড়া, ইসলামপুর, গোয়ালপোখর, চাকুলিয়া, করণদিঘি, রায়গঞ্জ, কালিয়াগঞ্জ, হেমতাবাদ এবং ইটাহার।

৭. দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা (৬টি আসন): কুশমন্ডি, কুমারগঞ্জ, বালুরঘাট, তপন, গঙ্গারামপুর এবং হরিরামপুর।

৮. মালদা জেলা (১২টি আসন): হাবিবপুর, গাজোল, চাঁচল, হরিশ্চন্দ্রপুর, মালতীপুর, রতুয়া, মানিকচক, মালদা, ইংরেজ বাজার, মোথাবাড়ি, সুজাপুর এবং বৈষ্ণবনগর।

৯. ঝাড়গ্রাম জেলা (৪টি আসন): নয়াগ্রাম, গোপীবল্লভপুর, ঝাড়গ্রাম এবং বিনপুর।

১০. পুরুলিয়া জেলা (৯টি আসন): বান্দোয়ান, বলরামপুর, বাঘমুণ্ডি, জয়পুর, পুরুলিয়া, মানবাজার, কাশীপুর, পাড়া এবং রঘুনাথপুর।

১১. বাঁকুড়া জেলা (১২টি আসন): শালতোড়া, ছাতনা, রাণীবাঁধ, রায়পুর, তালড্যাংরা, বাঁকুড়া, বরজোড়া, ওন্দা, বিষ্ণুপুর, কোতুলপুর, ইন্দাস এবং সোনামুখী।

১২. পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা (১৫টি আসন): দাঁতন, কেশিয়ারি, নারায়ণগড়, সবং, পিংলা, খড়গপুর সদর, খড়গপুর গ্রামীণ, ডেবরা, দাসপুর, ঘাটাল, চন্দ্রকোনা, গড়বেতা, শালবনী, মেদিনীপুর এবং কেশপুর।

১৩. পূর্ব মেদিনীপুর জেলা (১৬টি আসন): তমলুক, পঁাসকুড়া পূর্ব, পঁাসকুড়া পশ্চিম, ময়না, নন্দকুমার, মহিষাদল, হলদিয়া, নন্দীগ্রাম, চণ্ডীপুর, পটাশপুর, ভগবানপুর, খেজুরি, কঁাথি উত্তর, কঁাথি দক্ষিণ, এগরা এবং রামনগর।

১৪. বীরভূম জেলা (১১টি আসন): দুবরাজপুর, সিউড়ি, খয়রাশোল, বোলপুর, নানুর, লাভপুর, সাঁইথিয়া, ময়ূরেশ্বর, রামপুরহাট, হাসন এবং মুরারই।



📍 ২৯শে এপ্রিল (দ্বিতীয় দফা): জেলাভিত্তিক নির্বাচনী কেন্দ্রের তালিকা

এই দফায় মূলত কলকাতা, দুই ২৪ পরগনা, হাওড়া, হুগলি, নদীয়া এবং মুর্শিদাবাদের বাকি অংশে ভোট হবে। জেলাগুলো হলো:

১. কলকাতা (১১টি আসন): কলকাতা বন্দর, ভবানীপুর, রাসবিহারী, বালিগঞ্জ, চৌরঙ্গী, এন্টালি, বেলেঘাটা, জোড়াসাঁকো, শ্যামপুকুর, মানিকতলা এবং কাশীপুর-বেলগাছিয়া।

২. উত্তর ২৪ পরগনা (৩৩টি আসন): বাগদা, বনগাঁ উত্তর, বনগাঁ দক্ষিণ, গাইঘাটা, স্বরূপনগর, বাদুড়িয়া, হাবড়া, অশোকনগর, আমডাঙ্গা, বিজপুর, নৈহাটি, ভাটপাড়া, জগদ্দল, নোয়াপাড়া, ব্যারাকপুর, টিটাগড়, খড়দহ, দমদম উত্তর, পানিহাটি, কামারহাটি, বরানগর, দমদম, রাজারহাট-নিউ টাউন, বিধাননগর, রাজারহাট-গোপালপুর, মধ্যমগ্রাম, বারাসাত, দেগঙ্গা, হাড়োয়া, মিনাখাঁ, সন্দেশখালি, বসিরহাট দক্ষিণ এবং বসিরহাট উত্তর।

৩. দক্ষিণ ২৪ পরগনা (৩১টি আসন): গোসাবা, বাসন্তী, কুলতলি, পাথরপ্রতিমা, কাকদ্বীপ, সাগর, কুলপি, রায়দিঘি, মন্দিরবাজার, জয়নগর, বারুইপুর পূর্ব, বারুইপুর পশ্চিম, ক্যানিং পূর্ব, ক্যানিং পশ্চিম, ভাঙড়, মগরাহাট পূর্ব, মগরাহাট পশ্চিম, ডায়মন্ড হারবার, ফলতা, সাতগাছিয়া, বিষ্ণুপুর, সোনারপুর উত্তর, সোনারপুর দক্ষিণ, ভাঙড়, কসবা, যাদবপুর, সোনারপুর, টালিগঞ্জ, বেহালা পূর্ব, বেহালা পশ্চিম এবং মেটিয়াবুরুজ।

৪. নদীয়া জেলা (১৭টি আসন): করিমপুর, তেহট্ট, পলাশিপাড়া, কালীগঞ্জ, নাকাশিপাড়া, চাপড়া, কৃষ্ণনগর উত্তর, কৃষ্ণনগর দক্ষিণ, নবদ্বীপ, শান্তিপুর, রানাঘাট উত্তর-পশ্চিম, কৃষ্ণগঞ্জ, রানাঘাট উত্তর-পূর্ব, রানাঘাট দক্ষিণ, চাকদহ, কল্যাণী এবং হরিণঘাটা।

৫. মুর্শিদাবাদ জেলা (বাকি আসন): মুর্শিদাবাদ জেলার যে আসনগুলোতে প্রথম দফায় ভোট হয়নি (যেমন কান্দি, বড়ঞা, ভরতপুর এবং খড়গ্রাম), সেই আসনগুলোতে এই দফায় ভোট সম্পন্ন হবে।

৬. হাওড়া জেলা (১৬টি আসন): বালি, হাওড়া উত্তর, হাওড়া মধ্য, হাওড়া দক্ষিণ, শিবপুর, ডোমজুড়, সাঁকরাইল, পাঁচলা, উলুবেড়িয়া উত্তর, উলুবেড়িয়া দক্ষিণ, উলুবেড়িয়া পূর্ব, শ্যামপুর, বাগনান, আমতা, উদয়নারায়ণপুর এবং জগতবল্লভপুর।

৭. হুগলি জেলা (১৮টি আসন): উত্তরপাড়া, শ্রীরামপুর, চাঁপদানি, সিঙ্গুর, চন্দননগর, চুঁচুড়া, বলাগড়, পাণ্ডুয়া, সপ্তগ্রাম, চণ্ডীতলা, জাঙ্গিপাড়া, হরিপাল, ধনেখালি, তারকেশ্বর, পুরশুড়া, আরামবাগ, গোঘাট এবং খানাকুল।

৮. পশ্চিম বর্ধমান (আংশিক): জেলার বাকি থাকা শিল্পাঞ্চল সংলগ্ন কেন্দ্রগুলোতে এই দফায় ভোট হবে।