কে ছিলেন প্রভু মহাবীর ? কেন পালন হয় আজকের দিনটি ?
মহাবীর জন্ম কল্যাণক জৈন ধর্মের অন্যতম প্রধান ও পবিত্র উৎসব। এই দিনটি উদ্যাপন করা হয় ভগবান মহাবীর-এর জন্মতিথি উপলক্ষে, যিনি বর্তমান অবসর্পিণী কালের চব্বিশতম ও শেষ তীর্থংকর—অর্থাৎ ধর্মের সর্বোচ্চ প্রচারক।
এই শুভ দিনটি সাধারণত গ্রেগরীয় বর্ষপঞ্জি অনুযায়ী মার্চ বা এপ্রিল মাসে পড়ে এবং জৈন সম্প্রদায়ের কাছে এটি গভীর আধ্যাত্মিক তাৎপর্য বহন করে।

🌼 জন্ম: এক মহান আত্মার আগমন
জৈন সাহিত্য অনুসারে, ভগবান মহাবীর জন্মগ্রহণ করেন ৫৯৯ খ্রিস্টপূর্বাব্দে, চৈত্র মাসের শুক্লপক্ষের ত্রয়োদশী তিথিতে। তাঁর জন্ম হয় বিহারের ক্ষত্রিয়কুণ্ডে—যা অনেক ঐতিহাসিক আজকের কুন্দলপুর (মুজাফফরপুর জেলা) বলে মনে করেন।
তিনি জন্মেছিলেন একটি প্রগতিশীল গণরাজ্যে—ভাজ্জি—যেখানে শাসক নির্বাচন হতো জনগণের ভোটে, এবং যার রাজধানী ছিল বৈশালী।
জন্মের সময় রাজ্যে সমৃদ্ধি বেড়ে যাওয়ায় তাঁর নাম রাখা হয় “বর্ধমান”—অর্থাৎ “যিনি ক্রমশ বৃদ্ধি পান”। স্থানীয় মানুষের কাছে তাঁর জন্মভূমি এতটাই পবিত্র যে, সেই জমি বহু শতাব্দী ধরে চাষাবাদ করা হয়নি।
✨ কিংবদন্তি: স্বপ্নে আগমনের বার্তা
মহাবীর ছিলেন রাজা সিদ্ধার্থ এবং রাণী ত্রিশলা-এর পুত্র, ইক্ষ্বাকু বংশে জন্মগ্রহণ করেন।
কথিত আছে, মহাবীরের জন্মের আগে রাণী ত্রিশলা একাধিক শুভ স্বপ্ন দেখেছিলেন—যা এক মহান আত্মার আগমনের ইঙ্গিত দেয়।
- শ্বেতাম্বর মতে: ১৪টি স্বপ্ন
- দিগম্বর মতে: ১৬টি স্বপ্ন
এই স্বপ্নগুলির ব্যাখ্যা নিজেই করেছিলেন রাজা সিদ্ধার্থ।
আরও একটি আকর্ষণীয় বিশ্বাস হলো—মহাবীর জন্মের পর দেবরাজ ইন্দ্র তাঁকে সুমেরু পর্বতে নিয়ে গিয়ে “অভিষেক” অনুষ্ঠান সম্পন্ন করেন। এটি জৈন ধর্মে তীর্থংকরদের জীবনের পাঁচটি পবিত্র ঘটনার (পঞ্চ কল্যাণক) একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
🎉 উদযাপন: ভক্তি, দান ও অহিংসার বার্তা
মহাবীর জন্মজয়ন্তী আজও অত্যন্ত ভক্তি ও আনন্দের সঙ্গে উদযাপিত হয়।
🚩 রথযাত্রা ও শোভাযাত্রা
মহাবীরের মূর্তি রথে বসিয়ে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করা হয়, যেখানে স্তব ও ধর্মীয় সংগীত ধ্বনিত হয়।
💧 অভিষেক ও পূজা
মন্দিরে মহাবীরের মূর্তির উপর পবিত্র স্নান (অভিষেক) করা হয় এবং বিশেষ পূজা অনুষ্ঠিত হয়।
🙏 ধ্যান ও প্রার্থনা
ভক্তরা মন্দিরে গিয়ে ধ্যান, প্রার্থনা ও ব্রত পালন করেন, নিজের জীবনকে আরও শুদ্ধ করার জন্য।
🤝 দান ও সেবা
এই দিনে অনেকেই গরু রক্ষা, দরিদ্রদের আহার প্রদান এবং নানা সমাজসেবামূলক কাজে অংশ নেন।
📢 অহিংসার প্রচার
মহাবীরের অহিংসার বাণী ছড়িয়ে দিতে অহিংস দৌড় ও র্যালির আয়োজন করা হয়।
🌿 শেষ কথা
মহাবীরের জন্ম শুধু একটি ঐতিহাসিক ঘটনা নয়—এটি মানবতার জন্য এক আলোকবর্তিকা। তাঁর জীবন আমাদের শেখায় শান্তি, সহানুভূতি ও অহিংসার পথে চলতে।