কখন হবে গ্রহণ ? বাংলায় কোথায় দেখা যাবে ? কি কি মানা উচিৎ ? জেনে নিন

    


ভারতে বিশেষত পশ্চিমবঙ্গে কি গ্রহণ দেখা যাবে?

হ্যাঁ , ভারতবর্ষের বেশিরভাগ স্থান থেকেই এই গ্রহন দেখা যাবে । পশ্চিমবঙ্গে , বিশেষত কোলকাতায় এই গ্রহন দৃশ্য । 
      

পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণ (ভারতবর্ষে গ্রস্তোদয়রূপে দৃশ্য)। 

১৮ই ফাল্গুন, ভাঃ ১২ই ফাল্গুন, ইং ৩রা মার্চ, মঙ্গলবার, ২০২৬ খ্রীঃ।


পৃথিবীতে গ্রহণ আরম্ভ প্রভৃতি 

(ভারতীয় প্রমাণ সময়ানুযায়ী)

গ্রহণ স্পর্শ (আরম্ভ) দিবা ঘ ৩।২০ মিঃ।

গ্রহণ মধ্য- অপরাহ্ণ ঘ ৫।০৫ মিঃ।

গ্রহণ মোক্ষ (সমাপ্তি) - রাত্রি ঘ ৬।৪৮ মিঃ।

গ্রহণ স্থিতি- ৩ ঘঃ ২৮মিঃ।

পূর্ণগ্রাস আরম্ভ (নিমীলন)- অপরাহ ঘ ৪।৩৪ মিঃ।

পূর্ণগ্রাস সমাপ্তি (উন্মীলন)- সন্ধ্যা ঘ ৫।৩৩ মিঃ।

পূর্ণগ্রাস স্থিতি- ৫৯ মিঃ।

গ্রাসমান- ১.১৫৫।


কলকাতায় গ্রস্তোদয় দৃশ্য।


উপচ্ছায়া গ্রহণ-গ্রহণ আরম্ভ হইবার কিছু পূর্ব্বে ও গ্রহণ মোক্ষ (সমাপ্তি) হইবার কিছু পরে চন্দ্র পৃথিবীর উপচ্ছায়ায় প্রবিষ্ট হয়, ইহাকে উপচ্ছায়া গ্রহণ বলে। ইহাতে চন্দ্রের কিঞ্চিৎ কান্তি মালিন্য পড়ে মাত্র, ইহা গ্রহণ বলিয়া গণ্য হইবে না। ইহাতে কোন ধর্মীয় অনুষ্ঠানের প্রয়োজন নেই। ।


উপচ্ছায়া স্পর্শ (প্রবেশ): ঘ ২।১৩ মিঃ।

উপচ্ছায়া মোক্ষ (ত্যাগ)-রাত্রি ঘ ৭।৫৫ মিঃ


পশ্চিমবঙ্গের কোথায় কখন গ্রহণ দেখা যাবে ? 

কলকাতায় মঙ্গলবার বিকেল ৫টা ৩৯ মিনিটে চন্দ্রোদয় হবে। সেই সময় থেকেই দেখা যাবে গ্রহণ। কারণ, এ দেশের বেশির ভাগ জায়গায় চন্দ্রোদয়ের আগেই শুরু হয়ে যাবে গ্রহণ। কলকাতার আকাশে এক ঘণ্টা ৯ মিনিট ধরে ধরে দেখা যাবে গ্রহণ। 

দার্জিলিঙে বিকেল ৫টা ৩৭ মিনিটে চন্দ্রোদয়ের সঙ্গে সঙ্গেই দেখা যাবে গ্রহণ। তা চলবে এক ঘণ্টা ১১ মিনিট ধরে। 

কোচবিহারে মঙ্গলবার বিকেল ৫টা ৩৩ মিনিট থেকে এক ঘণ্টা ১৫ মিনিট ধরে দেখা যাবে গ্রহণ। 

মেদিনীপুরে বিকেল ৫টা ৪৪ মিনিটে চন্দ্রোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে দেখা যাবে গ্রহণ। চলবে এক ঘণ্টা ৪ মিনিট ধরে। 

মুর্শিদাবাদে ৫টা ৩৮ মিনিট থেকে এক ঘণ্টা ১০ মিনিট ধরে আকাশে দেখা যাবে গ্রহণ।


চন্দ্রগ্রহণের সময় কী কী করবেন না? 

প্রথমত, চন্দ্রগ্রহণের সময় শারীরিক মিলন না করাই ভালো। বলা হয়, এই সময় গর্ভবতী মহিলাদের বাইরে বের না হওয়া উচিত । গ্রহণের সময় পরিবেশের কিছু ক্ষতি হয়। আর এর খারাপ প্রভাব পড়তে পারে গর্ভস্থ বাচ্চার ওপর। এছাড়াও, গ্রহণের সময় খাবার না খাওয়াই ভালো। এ সময় পৃথিবীতে যে রশ্মি প্রবেশ করে, তার থেকে অসুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়। তাই গ্রহণের সময় রান্না করা ও খাবার খাওয়া এড়িয়ে চলুন। এবং চেষ্টা করুন সব খাবার ঢেকে রাখতে।  


গ্রহণ দর্শনে শুভাশুভ:  এই গ্রহণ মেষ মিথুন কর্কট তুলা ও মীনরাশির দর্শনে শুভ। উক্ত রাশি হইলেও জন্মতারা জন্য ভরণীনক্ষত্রাশ্রিত মেষরাশির দর্শন নিষিদ্ধ। ইহা ছাড়া অন্য রাশির দর্শনে অশুভ। দৈবাৎ দর্শন হইলে ব্রাহ্মণকে স্বর্ণদান কর্তব্য।


দীক্ষিতগণের মন্ত্রপুরশ্চরণে এই রাশ্যাদি বিচার অনাবশ্যক। বৈধদর্শনকারী মাত্রেরই গ্রহণ নিমিত্তক স্নান অবশ্য কর্ত্তব্য।


প্রমাণ যথা: 

"সংক্রমে গ্রহণে চৈব ন স্নায়াদ যস্তু মানবঃ।

সপ্তজন্মস্বসৌ কুষ্ঠীস্যাদ দুঃখ ভাগী চ সর্ব্বদা।।"


মুক্তিস্নানমন্ত্রস্তব:

"উত্তিষ্ঠগম্যতাং রাহো ত্যজ্যতাং সূর্য্যসঙ্গমঃ। 

কর্মচাণ্ডালযোগোত্থং কুরু পাপক্ষয়ং মম।।"


গ্রহণ বৈধভাবে দর্শন করিলে অক্ষয় পুণ্য ফল লাভ হয়। মৃত পিতৃক বৈধদর্শনকারী মাত্রেরই সকৃৎ প্রক্ষালিত আমান্ন শ্রাদ্ধ কর্তব্য। জনন ও মরণাশৌচে স্নানবিহিত, কিন্তু দান ও শ্রাদ্ধ বিহিত নহে। ক্ষতাশৌচে দানাদি বিহিত। অদ্যারভ্য সপ্তাহকাল বিশেষ যাত্রা নিষিদ্ধ। গ্রহণকালে দীক্ষা ও অনধ্যায়।.


অত্র গঙ্গাস্নানে সঙ্কল্পবাক্য, যথাঃ- বিষ্ণুরোম তৎসদোদ্য ফাল্গুনে মাসি কুম্ভ রাশিস্থে ভাস্করে শুক্লপক্ষে পৌর্ণমাস্যান্তিথৌ/কৃষ্ণপক্ষে প্রতি পদিতিথৌ রাহুগ্রস্তে নিশাকরে অমুক গোত্রঃ শ্রীঅমুক দেবশর্ম্মা (শূদ্রপক্ষে শ্রীঅমুক দাস, স্ত্রীপক্ষে অমুক গোত্রা শ্রীঅমুকী দেবী বা দাসী)। কোটিগুণ গঙ্গাস্নান জন্য ফল সমফল প্রাপ্তিকামঃ (শ্রীবিষ্ণু প্রীতিকামঃ বা স্ত্রীপক্ষে কামা) অস্যাং গঙ্গায়াং স্নানমহং করিষ্যে। গঙ্গাভিন্ন পুষ্করিণী জলে "অস্যাং পুষ্করিণ্যাং” এবং নদীজলে "অস্যাং নদ্যাং” বলিতে হইবে।