বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাণী ও সংক্ষিপ্ত জীবনী
বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় – সংক্ষিপ্ত জীবনী
পরবর্তী সময়ে তিনি অসংখ্য উপন্যাস ও গল্প লিখে বাংলা সাহিত্যকে সমৃদ্ধ করেছেন।
প্রধান গ্রন্থসমূহ
উপন্যাস: পথের পাঁচালী (১৯২৯), অপরাজিত (১৯৩১), আরণ্যক (১৯৩৯), অপরাজিতা, আদর্শ হিন্দু হোটেল, দেবযান, ইছামতী, অশনি সংকেত প্রভৃতি।
ছোটগল্প সংকলন: মৌচাক, মেঘমল্লার, জলসাঘর প্রভৃতি।
সিরিজ রচনা: শিশু-কিশোরদের জন্য তাঁর সৃষ্ট চরিত্র তরুণ কিশোর অভিযানপ্রিয় “অপরাজিত অপুর” গল্পমালা পাঠকের মনে অমর হয়ে আছে।
• সমাজের বাস্তব পটভুমিতে যে রসশিল্প রচিত হয়, শিল্পীমানসের প্রকাশ-ভুমি যাহা, তাহাই সাহিত্য।
• যে জাতির মধ্যে সৌন্দর্যবােধ দিন দিন এত কমে যাচ্ছে, সে জাতির ভবিষ্যৎ সম্বন্ধে খুব সন্দেহ হয়।
• নারী প্রেমের সাধিকা হয় অতি সহজে, পুরুষ তা পারে না। নারী পাপের পথেও নিয়ে যায়, কল্যাণের পথেও নিয়ে যায়। কারণ চিত্তনদী উভয়তোমুখী, বহতি পাপায়, বহতি কল্যাণায়।
• আর্টকে বুদ্ধির চেয়ে হৃদয় দিয়ে বুঝতে চেষ্টা করলে বােঝা যায় বেশি।
• জীবনকে, খুব কম মানুষই চেনে। জন্মগত ভুল সংস্কারের চোখে সবাই জীবনকে বুঝিবার চেষ্টা করে, দেখিবার চেষ্টা করে, দেখাও হয় না, বােঝাও হয় না।
• যৌন চেতনার পরম রূপান্তরণ হল প্রেম। বীজ এবং ফুলের সম্পর্কের মতাে কাম এবং প্রেমের সম্পর্ক অচ্ছেদ্য। কাম বলতে বুঝি জৈব মানসিক ক্ষুধা, এক ধরনের দহনক্রিয়া। এর থেকে বিচ্ছুরিত হয় যে আলাে তাকে বলি প্রেম। এই আলােতে যখন কাউকে দেখি তখন তাকে বলি সুন্দর। এই সুন্দর বলতে চোখমুখের গড়ন, দেহের জৌলুস বােঝায় না। এক ধরনের অবিশ্লেষ অনুভব মাত্র। এর মূলে থাকে রক্ত-মানসের পিপাসা। দেহ নিহিত সুপ্ত কাম-চৈতন্যের জাগরণ, মন তাকে চিনে নেয়। দেহ এবং মনের পূর্ণ সায় যখন নরনারীর ভেতরে সমভূমিক তখন প্রেম সার্থক।
• প্রকৃতির রাজ্যে মানুষের যেতে হয় একাকী, তবেই প্রকৃতির রাণী অবগুণ্ঠন উন্মােচন করেন দর্শকের সামনে, নতুবা নয়।
• জীবনে মানুষ ততক্ষণ ঠিক শেখে না অনেক জিনিসই, যতক্ষণ সে দুঃখের সম্মুখীন না হয়।
• জীবন খুব বড় একটা রােমান্স বেঁচে থেকে একে ভােগ করাই রােমান্স। অতি তুচ্ছতম, হীনতম, একঘেয়ে জীবনও রােমান্স।
• সাহিত্য শুধু রসবিলাস নয়, জীবন সমস্যার সমাধানের গূঢ় ইঙ্গিত থাকবে যে সাহিত্যের মধ্যে তারই মধ্যে আমরা পাব কলালক্ষ্মীর কল্যাণতম মূর্তিটির সন্ধান।
• সুখদুঃখ জন্মমৃত্যু সবই খেলা, দুদিনের। কিছুতেই ব্যথিত হবার কিছুই কারণ নেই। নদী বেয়ে যে শব ভেসে যাচ্ছে কে জানে হয়তাে দূর কোন্ অজানা নক্ষত্রে ওর মৃত্যু নবজীবন লাভ করেছে। ওর মৃত্যুযন্ত্রণা সার্থক হয়েছে। এই বিচিত্র বিশ্বলীলার সকলেই যে যাত্রী।
• বহুদূরের ওই নীল কৃষ্ণাভ মেঘরাশি, ঘন নীল; নিথর গহন আকাশটা মনে যে ছবি আঁকে, যে চিন্তা যােগায়, তার গতি গােমুখী গঙ্গার মতাে অনন্তের দিকে, সে সৃষ্টি-স্থিতি-লয়ের কথা বলে মৃত্যু পারের দেশের কথা কয় -- ভালােবাসা-- বেদনা--ভালােবাসিয়া--হারানাে-- বহুদূরের প্রীতিভরা পুনর্জন্মের বাণী।
• এই পৃথিবীর একটা Spiritual nature আছে, আমরা এর গাছপালা, ফুলফল, আলােছায়া, আকাশ বাতাসের মধ্যে জন্মগ্রহণ করেছি। বলে, শৈশব থেকে এদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ পরিচয়ের বন্ধনে আবদ্ধ বলে, এর প্রকৃত রূপটি ধরা আমাদের পক্ষে বড় কঠিন হয়ে পড়ে।
• লেখক ও কবির মধ্যে একটা সহজাত নিঃসঙ্গতা আছে।
• সাহিত্য আমাদের পরিচিত করবে নিগূঢ় বিশ্বরহস্যের সঙ্গে, জীবনের চরমতম প্রশ্নগুলির সঙ্গে, দেবে আমাদের উদার, মৃত্যুঞ্জয় দৃষ্টি সকল সুখদুঃখের ঊর্ধ্বে যে অসীম অবকাশ ও তৃপ্তি, আমাদিগকে পরিচিত করবে সেই অবকাশের সঙ্গে সাহিত্যের একটা মস্তবড় দিক।
• তুমি চলিয়া যাইতেছ । তুমি কিছুই জানাে না, পথের ধারে তােমার চোখে কি পড়িতে পারে। তােমার ডাগর নবীন চোখে বিশ্বগ্রাসী ক্ষুধায় চারিদিককে গিলিতে গিলিতে চলিয়াছে নিজের আনন্দের এ হিসাবে তুমিও একজন দেশ আবিস্কারক।

.jpg)