রাধাষ্টমী কেন পালন করা হয়? আজকে কি কি করা উচিত ও কি করা উচিত নয়
ভাদ্র মাসের শুক্ল অষ্টমী তিথিতে প্রেম ও ভক্তির প্রতীক শ্রীমতী রাধারাণীর আবির্ভাব দিবস পালিত হয়। এই দিনটিই “রাধাষ্টমী” নামে পরিচিত। ভক্তজনেরা একে কৃষ্ণভক্তির অন্যতম প্রধান উৎসব বলে মনে করেন।
রাধাষ্টমীর তাৎপর্য
রাধা হলেন কৃষ্ণপ্রেমের সর্বোচ্চ প্রতীক। ভক্তরা বিশ্বাস করেন, শ্রীকৃষ্ণকে পাওয়া যায় রাধার মাধ্যমে। তাঁর স্নেহ, করুণা ও নিঃস্বার্থ প্রেম মানব জীবনের জন্য এক অনন্য শিক্ষার দৃষ্টান্ত। তাই রাধাষ্টমীর দিনে ভক্তরা রাধারাণীকে আরাধনা করে থাকেন।
এই দিনে কি কি করা উচিত
উপবাস ও ভক্তি: অনেকেই এদিন অন্নগ্রহণ না করে ফলাহার বা নির্জলা উপবাস পালন করেন।
পুজো ও আরতি: রাধা-কৃষ্ণের মূর্তি বা ছবি সাজিয়ে পূজা, আরতি ও কীর্তন করা হয়।
শাস্ত্র পাঠ: ভগবত, গীতাগ্রন্থ, পদাবলী বা রাধার মহিমা বর্ণিত শাস্ত্র পাঠ করা শ্রেয়।
দান ও সেবা: দরিদ্র ও অভাবীকে খাদ্য বা বস্ত্র দান করা, মন্দিরে সেবা করা এই দিনে অত্যন্ত পুণ্যকর।
ভক্তিগান ও নামসঙ্কীর্তন: রাধা-কৃষ্ণের নামগান ও ভজন গাওয়া বা শোনা।
এই দিনে কি করা উচিত নয়
অশুদ্ধ আচরণ: মদ্যপান, মাংস ভক্ষণ বা অশুদ্ধ কোনো কাজ এদিন এড়িয়ে চলতে হবে।
রাগ-বিদ্বেষ: অন্যকে অপমান, ঝগড়া বা অশান্তি সৃষ্টি করা রাধার ভক্তির বিরোধী।
অলসতা: এদিন শুধু দেহে উপবাস নয়, মনে-প্রাণে ভক্তি ও আনন্দে ভরপুর থাকা জরুরি।
অতিরিক্ত ভোগবিলাস: রাধাষ্টমীর দিনে সরল জীবনযাপন ও সৎ চিন্তা-চেতনায় মন দেওয়া উচিত।
উপসংহার
রাধাষ্টমী শুধু কোনো ধর্মীয় আচার নয়, বরং ভক্তির মহিমা উপলব্ধির এক পবিত্র দিন। এই দিনে রাধার প্রতি ভক্তি নিবেদন করলে আমাদের মন হয় শান্ত, জীবন হয় প্রেমময় এবং ভগবানের সান্নিধ্য পাওয়া যায় সহজতর।
